শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১২

 
বৃষ্টি ভেজা শহীদ মিনার...
বৃষ্টির মাঝে বৃষ্টিকে খুঁজি আমার আপন করে,
বৃষ্টির ছোঁয়া ছড়িয়ে আছে আমার এ অধরে।
অতীতের সব মনে হানা দেয়, জোরে চিৎকার ছাড়ে,
আমি মরে পরে রয়েছি আজো ঐ শহীদ মিনারে...
বৃষ্টি পড়ে! বৃষ্টি পড়ে ভিজিয়ে দেয় এই আমারে,
আর ভরা বরষায় শুকনো এ বুক ভাঙে চৌচিরে...
মৃত্যুর আগেই মৃত্যু হয়েছে ভালোবাসাহীন মনের,
কোন শেষ নেই, কোন শেষ নেই এই বিভীষিকা ক্ষণের...
আজো আজো জোড়া জোড়া সব বসে ঐ প্রাঙ্গণে,
শুধু তুমি নাই, শুধু তুমি নাই এই আমারই সনে...
আমি ধুঁকে মরি রোজ-রোজ একটু একটু করে
বাহির কিংবা ঘরে, আমি পড়ে রই ঘোরে...
শেষ নেই যেন যন্ত্রণার, নেই শেষ বিভীষিকার,
দিনের পর দিন চলে যায়, হৃদ হয় ছাড়খার...

৩ আগস্ট, ২০১২
দেবাশিস্‌ মুখার্জি

বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১২

কৃষ্ণকলি

**


কৃষ্ণকলি

আমার
হয় নি দেখা বনলতা সেন,
হয় নি দেখা ছোট্টবেলার প্রেম
রিপন স্ট্রিটের কালো মেম
ম্যারি এন।

আমার
হয় নি দেখা সবিতা-সুরঞ্জনা,
কিংবা লীলা,
কিংবা শ্রীলা,
কিংবা বেলা,
কিংবা মালা,
কিংবা সেই কৈশর-প্রেম
রোমিও হবার রঞ্জনা।

আমি দেখেছি তারে,
যে বেঁছেছে আমারে
আমায় আপন করে
তার ভালোবাসা জোরে,
সে যে আমার প্রাণের মানিক,
আমার কৃষ্ণকলি।

ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টির মাঝে,
গুরুম গুরুম করছিলো বাজে,
দেখেছিলাম তাকে
ঝাঁপসা, মোটা কাঁচের ফাঁকে।
আর মজেছিলাম তার হরিণী চোখে।
দেখ্‌ছিলো কি পথের লোকে??
ঘন বরষায়
মজেছিল মন প্রেমের খেলায়,
হাতে হাত র'তো বেলা-অবেলায়...
গভীর রাতে,
তারাদের সাথে,
কিংবা চাঁদের সনে
হারিয়ে যেতাম ঐ দু'জনে,
আমি আর আমার ভালোবাসা,
আমার কৃষ্ণকলি।

হয়তো ছিল একটু কালো,
তবু লাগতো তারে অনেক ভালো।
কোন কোন অলস দুপুর,
সুর তুলতো পায়ের নুপূর...
মুগ্ধ আমি তাকিয়ে র'তাম তারই চোখের 'পরে,
পাতা দু'টো একটুও না নড়ে!
বুঝে নিতাম প্রেমের গভীরতা,
আর হরিণী চোখের মাদকতা,
যে নেশায় ডুবেছিল মন।
দুলেছিলাম আমরা দু'জন --
আমি আর আমার প্রিয়া,
আমার কৃষ্ণকলি।

ভালোবাসা ছায়া
ছোঁয়া-ছুঁয়ি-মায়া,
একটু আদর, কিংবা চুমু ঠোঁটে।
সুখ জুটেছিল তিন মাস মোটে!
ফুরোয় বেলা,
ফুরোয় খেলা।
কাকডাকা এক ভোরে
চলে গেলো সরে
দূরে, বহুদূরে,
কোন এক অচিনপুরে,
আমার জীয়ন কাঠি,
আমার কৃষ্ণকলি।


দেবাশিস্‌ মুখার্জি
১ আগস্ট, ২০১২


**গায়িকা কৃষ্ণকলির ছবিটা প্রতীকি, এর সাথে আমার কৃষ্ণকলির কোন সম্পর্ক নেই।

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২

একটি খোলা চিঠি



একটি খোলা চিঠি

স্বাধীনতা,
আমি তোরই জন্য প্রহর গুণেছি
রক্তে ভেজা রাজপথে।
স্বাধীনতা,
আমি তোরই জন্য নতুন সেজেছি
লাশে ভরা মৃত্যুরথে।
স্বাধীনতা,
আমি তোরই জন্য নতুন জেগেছি
রেস্কোর্সের ময়দানে।
স্বাধীনতা,
আমি তোরই জন্য ঘরটা ছেড়েছি
জীবনকে নিয়ে খেলে,
আমি তোরই জন্য গ্রেনেড তুলেছি
হাতের কলম ফেলে,
আমি তোরই জন্য সমর লড়েছি
হারিয়েছি এক পা!
চল্লিশ বছর হারিয়ে গেলো
ঘুঁচলো না সেই ঘাঁ...

স্বাধীনতা,
আজ তোরই নামে তাণ্ডব চলে,
শয়তানের কাল্‌ নাচন,
এতটা বছর ভেসে গেলেও
হয়নি কালিমা মোচন।

স্বাধীনতা,
আমিতো চাই নি তোকে
এতটা পঙ্গু করে।
আমিতো চাই নি তোকে
স্বৈরাচারের 'পরে।
আমিতো চাই নি তোকে
আল-বদরের কোলে।
আমিতো চাই নি তোকে
সন্ত্রাসের আদলে।
আমিতো চাই নি তোকে
রক্তচোষার গোলায়।
আমিতো চাই নি তোকে
দুর্নীতিরই ঝোলায়।

প্রিয় স্বাধীনতা,
অনেক-অনেক রক্ত গেলো,
তুই আসবি কি না বল??
আনতে তোকে জাগবে ছেলে,
খুলবে মেয়ে পায়ের মল,
হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবে।
খুলবে শ্রমিক কল,
এই ভৃত্যেরই পা করবে নৃত্য
ঐ রক্তচোষার বুকে।
আল-বদরে সব হারিয়ে
মরবে ধুঁকে ধুঁকে।
আর ধূর্তরা সব
মর্ত্য ছেড়ে গর্ত নেবে,
দেখবে না ভয়ে আলো।
স্বাধীনতা,
তুমি গরিবের হয়ে
রাজপথে নামো,
সাম্য-আগুণ জ্বালো।

স্বাধীনতা,
তুই দিস না রে আর ফাঁকি...
তোরই আশে কাঁদছে চাষা,
জ্বলছে তাদের আঁখি।
তুই তাণ্ডব হয়ে কাঁপিয়ে দে রে
ধনীর হাতের সাঁকি...
স্বাধীনতা,
তুই দিস নারে আর ফাঁকি...
তুই দিস নারে আর ফাঁকি...



দেবাশিস্‌ মুখার্জি
৩১ জুলাই, ২০১২