শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১২

ছবির ফ্রেম

ছবির ফ্রেম

হাঁটুর 'পরে রেখেছো হাত,
আর তার 'পরে থুতনিটা,
তুমি বসে আছো...
রক্তলাল কামিজে নিরাভরণ তুমি!
কপালের মাঝে লাল টুকটুকে টিপ...
কাঁধ-ছোঁয়া চুল ওড়াউড়ি করে
মৃদুমন্দ বাতাসে...

শুধু চুলগুলো ওড়ে, আর বাকি সব নীথর!
উড্ডীয়মান প্রজাপতি কিংবা দোদুল্যমান পল্লব
সব যেন থেমে আছে এক ছবির ফ্রেমে,
আর সময়ের চোরা স্রোতে বন্দী আমি!

মনকাড়া ডাগর চাউনি, কী গভীর তার ভাষা!
প্রেম-জ্যোতি মাখা চোখে যতটা গভীরে গেলে হয় সর্বনাশ,
আমি ঠিক ততটা গভীরেই গেলাম,
নাহ আরো গভীরে হারালাম আমি...

সময় ছুটে চলে আমি আটকে পড়ে রই,
আমার রাস্তা হাঁটে আমি হাঁটি না...
নীথর দাঁড়িয়ে রই ঐ আঁখিপানে,
কী এক গভীর আবাহনে আমি দাঁড়িয়েই রই...
দাঁড়িয়েই রই... দাঁড়িয়েই রই...
সব যেন এক ছবির ফ্রেম!


দেবাশিস্‌ মুখার্জি
১ নভেম্বর, ২০১২

মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১২

দ্বাদশপদী কবিতা - ৫

জ্যোতি
মঞ্জুল চোখেতে কৌমুদী-প্রপাত,
আবার কখনো অন্ধকার রা্ত,
কখনো বা ঝরে সঘন বরষা;
হয়েছে সে নিধি নিবেদ্য সহসা।
প্রেমের কাঙাল অধম এ কবি
একে একে আঁকে স্বপ্ন-কল্প ছবি।
প্রেমহীন হৃদে নব প্রেমারতিঃ
সুহাসিনী শ্যামা সুনয়না জ্যোতি।
হৃদয়-মাঝারে সুমন্দ-অনিল।
অনিকেত আমি। হবে দোঁহে মিল??
ছুটে চলে ধরা, কাল্‌-স্রোত বয়;
এই প্রেম-সুধা অজর-অক্ষয়।

২৭ অক্টোবর, ২০১২; ঢাকা
দেবাশিস্‌ মুখার্জি

অন্যান্য দ্বাদশপদী কবিতাঃ

দ্বাদশপদী কবিতা -৪
দ্বাদশপদী কবিতা - ৩
দ্বাদশপদী কবিতা - ২
দ্বাদশপদী কবিতা - ১

রবিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১২

জাস্ট অ্যানাদার ডে...

যখন মনের ভেতর সূর্যটা হটাৎ ডুবে যায়,
যখন আশা ভরসা সব রাস্তা হারায়।
যখন ভর দুপুরে পথের ধারে একলা করে ভয়,
যখন বাসের ভিড়ে গলার ভিতর কান্না চাপতে হয়।
জেনো তোমার মতই আমি ঠাকরে বেড়াই
জেনো তোমার মত আমার বন্ধু একটা চাই।
যেমন মাঝ দরিয়ার নৌকো ফিরে আসে কিনারায়,
ওরে মানুষ যথন আছে তখন হাত জুটে যায়।
শেষ বলে কিছু নেই...শেষ বলে কিছু নেই...
শেষ যেখানে, জেনো শুরু সেখানে...

[শেষ বলে কিছু নেই - অঞ্জন দত্ত]

দেখতে দেখতে দিন চলে যায়। কিছু মানুষ পুরোনো হয়ে যায়, নতুন্ কিছু মানুষ চলে আসে সেই জায়গাটা পূরণ করতে। মানুষ একা থাকে না, কেউ না কেউ বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে পুরনোদের স্মৃতি ভোলা যায় না, মনের কোণে কখনো না কখনো নাড়া দেয়। এভাবেই দিন চলে যায়, অথবা চালিয়ে নিতে হয়। মানুষ যা চায় তা খুব কম সময়েই সম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। মানুষকে নতুন অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়, নয়তো সে আর টিকে থাকতে পারে না।

কিছুক্ষণ পরই তারিখটা বদলে যাবে, চলে আসবে একটা কালো দিন। ১৯৮৫ এর এই দিনে জগন্নাথ হলের ছাদ ধ্বসে কিছু মেধাবী ছাত্র হারিয়ে গেছেন সময়ের অতল গহ্বরে। জানি, মৃত্যুর সাথে-সাথেই সব শেষ। তারপরও কখনো ভাবতে ইচ্ছে করে অন্যকোন জগতে তারা আছে্ন। সেই মানুষদের জন্য রইলো অনেক শ্রদ্ধা।