গত পোস্টটি পরবার পর অনেকেই অনেকেই যে কবিতার ব্যাকরণ নিয়ে পোস্ট দিলে ভালো হয়; কারণ ব্যাকারণের ব্যাপারগুলো তাদের কাছে কিঞ্চিৎ দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। কিন্তু শুধুই ব্যাকরণের কচকচানি নিশ্চই ভালো লাগার কথা না। তাই আমি ঠিক করেছি আমার এই ধারাবাহিকভাবে দ্বাদশপদী কবিতা পোস্টের সাথে সাথে একটু একটু করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো।
বাংলা স্বর বা ধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
১. বদ্ধস্বর
২. মুক্তস্বর
বদ্ধস্বর:
যে সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ মুখের প্রবহমান বাতাসকে আটকে দেয় তাদের বদ্ধস্বর বলা হয়। যেমন : আঁক্, বাঁক্, কর্ (করো কিন্তু না), লড়্ (লড়ো কিন্তু না) ইত্যাদি।
মুক্তস্বর:
যে সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের প্রবহমান বাতাস জিভের কোনো বাধা ছাড়াই বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে তাদের মুক্তস্বর বলে। যেমন: লড়ো, করো, নদী, ইত্যাদি।
উপরের উদাহরণগুলোর সবই ছোট ছোট শব্দ বা ধ্বনি নিয়ে দিলাম। বড় বড় শব্দ নিয়ে দিলে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হবে:
বৃন্দাবন = বৃন্ + দা + বন্
এখানে বৃন্ বদ্ধস্বর, দা মুক্ত স্বর, এবং বন্ বদ্ধস্বর।
আবাহন = আ + বা + হন্
এখানে আ মুক্তস্বর, বা মুক্তস্বর, এবং হন্ বদ্ধস্বর।
কিন্তু আবাহনী = আ + বা + হ + নী
আ মুক্তস্বর, বা মুক্তস্বর, হ মুক্তস্বর (খেয়াল করে দেখুন বিশ্লেষণে হ এর নীচে কোন হসন্ত দেই নি), এবং নী মুক্তস্বর।
স্বরের ব্যপারটা পরিষ্কার হয়ে গেলেই মাত্রায় প্রবেশ খুব সহজ হয়ে যাবে। মুক্তস্বর সবসময়েই একমাত্রার, তাই একে নিয়ে কোন সমস্যাই হয় না। কিন্তু বদ্ধস্বর কোন কোন ছন্দে একমাত্রার আবার কোন কোন ছন্দে দুই মাত্রার।
স্বরের ব্যাপারটা আগামী পোস্টে আলোচনা করবো। তবে তার আগে আরো দু'টি ব্যাপারে কথা বলে নিইঃ
পয়ার: চতুর্দশ অক্ষরের ছন্দ , বাংলা পদ্যে সর্বাধিক প্রচলিত ছন্দবিশেষ। যেমন:
মঙ্গলকাব্যে ‘বিজয় গুপ্ত’ ‘হরিদত্ত’ সম্পর্কে বলেছেন
আজ এইটুকুতেই থামি এবং মূল পোস্টে যাই।
বাংলা স্বর বা ধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
১. বদ্ধস্বর
২. মুক্তস্বর
বদ্ধস্বর:
যে সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ মুখের প্রবহমান বাতাসকে আটকে দেয় তাদের বদ্ধস্বর বলা হয়। যেমন : আঁক্, বাঁক্, কর্ (করো কিন্তু না), লড়্ (লড়ো কিন্তু না) ইত্যাদি।
মুক্তস্বর:
যে সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় মুখের প্রবহমান বাতাস জিভের কোনো বাধা ছাড়াই বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে তাদের মুক্তস্বর বলে। যেমন: লড়ো, করো, নদী, ইত্যাদি।
উপরের উদাহরণগুলোর সবই ছোট ছোট শব্দ বা ধ্বনি নিয়ে দিলাম। বড় বড় শব্দ নিয়ে দিলে ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার হবে:
বৃন্দাবন = বৃন্ + দা + বন্
এখানে বৃন্ বদ্ধস্বর, দা মুক্ত স্বর, এবং বন্ বদ্ধস্বর।
আবাহন = আ + বা + হন্
এখানে আ মুক্তস্বর, বা মুক্তস্বর, এবং হন্ বদ্ধস্বর।
কিন্তু আবাহনী = আ + বা + হ + নী
আ মুক্তস্বর, বা মুক্তস্বর, হ মুক্তস্বর (খেয়াল করে দেখুন বিশ্লেষণে হ এর নীচে কোন হসন্ত দেই নি), এবং নী মুক্তস্বর।
স্বরের ব্যপারটা পরিষ্কার হয়ে গেলেই মাত্রায় প্রবেশ খুব সহজ হয়ে যাবে। মুক্তস্বর সবসময়েই একমাত্রার, তাই একে নিয়ে কোন সমস্যাই হয় না। কিন্তু বদ্ধস্বর কোন কোন ছন্দে একমাত্রার আবার কোন কোন ছন্দে দুই মাত্রার।
স্বরের ব্যাপারটা আগামী পোস্টে আলোচনা করবো। তবে তার আগে আরো দু'টি ব্যাপারে কথা বলে নিইঃ
পয়ার: চতুর্দশ অক্ষরের ছন্দ , বাংলা পদ্যে সর্বাধিক প্রচলিত ছন্দবিশেষ। যেমন:
মঙ্গলকাব্যে ‘বিজয় গুপ্ত’ ‘হরিদত্ত’ সম্পর্কে বলেছেন
রথমে রচিল গীত কানা হরিদত্তএ কাব্যের ছন্দ মূলত অক্ষরবৃত্ত পয়ার ছন্দ। যে ছন্দে মঙ্গলকাব্য রচিত তাকে লঘু বা দ্বিপদী পয়ার ছন্দ বলা হয়েছে। এর প্রতিটি পদ আট ও ছয় মাত্রায় বিভক্ত।
মূর্খে রচিত গীত না জানে মহাত্ম্য
আজ এইটুকুতেই থামি এবং মূল পোস্টে যাই।

চৈত্রকোল
আজ নদখানি জলহীন, ধুধু করে বালু,
মাঝি দাদার লগিখানা আর নাই চালু।
জেলেরা গ্যাছে মরে, নাই কারো খোঁজ।
শৈশবের স্মৃতিরা মনে জাগে রোজঃ
গ্রামখানির পাশ ঘেঁষে যেত নদ চৈত্রকোল,
নৌকোর মাঝে বসে আমি খেতাম যে দোল!
কাশফুলের সাদা মেশে আকাশের নীলে!
সকালেতে স্নান ছিল সব ভাই-বোন মিলে।
ভাই আর বোন গামছা করে ছোট মাছ ধরে
সব মিলে খেলা করে দিতেম যে ছেড়ে!
জল ছিল টলমলে, ছিল না তো কাঁদা,
বালু 'পরে আলো পড়ে: চিকমিক সাদা!
২৯ মে, ২০১২; ঢাকা
দেবাশিস্ মুখার্জি
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন